ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী থেকে জুলাই ২০২৪-এ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, তারপর অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া, শ্রম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।

তরুণদের জন্য কাজ, খেলা, উদ্যোগ আর প্রযুক্তির দরজা খুলে দেওয়া।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আর প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির গভীর সংস্কার।
শহীদদের স্মরণ আর জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার: জুলাইকে ভুলতে না দেওয়া।
খেলার ফেডারেশন থেকে স্থানীয় নির্বাচন, প্রতিষ্ঠান থাকুক দলীয় প্রভাবের বাইরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ২৬ বছর বয়সে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা।
২৬ বছর বয়সে উপদেষ্টা১৯৯৮ সালে কুমিল্লার মুরাদনগরে জন্ম। শৈশব কেটেছে চৌদ্দগ্রাম আর গ্রামের বাড়ি আকুবপুরে, তারপর ঢাকায়। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারিতে, আর ২৬ বছর বয়সে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন।
উপদেষ্টা থাকাকালীন তাঁর মন্ত্রণালয়ের কাজের কিছু হিসাব। প্রতিটি সংখ্যার নিচে প্রকাশিত সূত্র দেওয়া আছে।
তরুণের সরাসরি অংশগ্রহণ তারুণ্যের উৎসবের প্রথম ধাপে (জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত); যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে, ২৬টি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়
সূত্র: TBSপোশাকশ্রমিকদের দাবিতে মালিক-শ্রমিক সমঝোতা, তাঁর শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বকালে (সেপ্টেম্বর ২০২৪)
সূত্র: Dhaka Tribune২০২৪-এর জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন কয়েক সপ্তাহে রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। সামনের সারিতে ছিলেন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬৫ সদস্যের কমিটিতে ২৩ জন সমন্বয়কের একজন হন।
তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯ জুলাই রাতে হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় এবং আন্দোলন থামানোর চাপ দেওয়া হয়। ২৪ জুলাই সকালে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে একই জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে আরও দুই সমন্বয়কের সঙ্গে তাঁকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। ১ আগস্ট দুপুরে ছয় সমন্বয়ক একসঙ্গে মুক্তি পান।
তিনি ঘোষণা দেন, ৬ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এগিয়ে ৫ আগস্ট হবে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।
“জুলাই এদেশে লক্ষ-কোটি বিপ্লবীর জন্ম দিয়েছে।”

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় হন; এখান থেকেই শুরু ছাত্ররাজনীতির পথ।
নতুন ছাত্রসংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির আত্মপ্রকাশ; তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বে।

যে আন্দোলন পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তার সমন্বয়ক দলের একজন।

দুই ছাত্র প্রতিনিধির একজন হিসেবে প্রথমে যুব ও ক্রীড়া, পরে শ্রম ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পান।
আগস্ট ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫: তিন মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য কাজ, প্রতিটির সঙ্গে তারিখ, অবস্থা আর সূত্র।


প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ২৬টি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারা দেশে আয়োজন। প্রথম ধাপেই অংশ নেন ৭১ লাখের বেশি তরুণ।
সূত্র: The Business Standardজাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮-এর অধীনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ই-স্পোর্টসকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলার স্বীকৃতি দেয়। নীতিমালা ঠিক করতে গঠিত হয় চার সদস্যের কমিটি।
সূত্র: Dhaka Tribuneজাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ‘শহীদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠ’ উদ্বোধন করেন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউনসাফজয়ী নারী ফুটবল দল পায় ১ কোটি টাকা, প্রথমবার এএফসি নারী এশিয়ান কাপে জায়গা পাওয়া দল ৫০ লাখ। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো পুরুষ দল পায় ২ কোটি টাকা বোনাস।
সূত্র: The Daily Starতরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য যুব ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার ঘোষণা দেন।
সূত্র: Dhaka Tribuneবক্তৃতা, লেখা আর দায়িত্বের দিনগুলোতে চারটি বিষয় তাঁর কথায় বারবার ফিরে এসেছে।

তাঁর বিশ্বাস, তরুণ প্রজন্মই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি, খেলাধুলা আর প্রযুক্তি (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, স্টার্টআপ) নিয়ে তিনি নিয়মিত কথা বলেন।
“একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ প্রজন্ম।”
তাঁর মতে, রাজপথে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য লড়াই, তা গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির সংস্কার জরুরি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে নিজেরা সংগঠিত হতে না পারাকে তিনি প্রকাশ্যেই বড় ব্যর্থতা বলেছেন।
“জুলাই সনদ Non-negotiable”
শহীদদের স্মরণ আর জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার তাঁর বক্তব্যে বারবার আসে। তাঁর চোখে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান একাত্তরে পাওয়া স্বাধীনতাকেই রক্ষা করেছে।
“যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন আন্দোলনের শহীদ, আহত ও জুলাই যোদ্ধাদের নাম মুছে ফেলা যাবে না ইতিহাস থেকে...”
খেলার ফেডারেশন হোক বা স্থানীয় নির্বাচন, তাঁর অবস্থান হলো প্রতিষ্ঠান চলবে দলীয় প্রভাবের বাইরে। জেলা ও অঞ্চলভিত্তিক আয়োজনে সুযোগ পৌঁছাবে রাজধানীর বাইরেও।
“স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক।”
প্রামাণ্যচিত্র, সাক্ষাৎকার এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের ভিডিও আর্কাইভ। যেকোনো কার্ডে ক্লিক করে সরাসরি দেখুন।

দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রোফাইল ও সাক্ষাৎকার। শিরোনাম আমাদের লেখা সারাংশ; ক্লিক করলে মূল লেখা খুলবে।
শপথের পরদিন দুই ছাত্র উপদেষ্টার পড়াশোনা, সংগঠন আর আন্দোলনের পথ নিয়ে প্রোফাইল।
উপদেষ্টা হিসেবে শপথের দিনে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
মুরাদনগরের গ্রাম থেকে প্রতিবেদন: তাঁর স্কুলজীবন আর বেড়ে ওঠার গল্প।
গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারে যোগ দেওয়া তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে এপির প্রতিবেদন।
ক্যাম্পাস বন্ধের পর আন্দোলন কীভাবে সারা দেশে ছড়াল, নিজের অভিজ্ঞতায়।
নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সরকারে থাকা কেন যথাযথ নয়, পদত্যাগপত্রে তাঁর ব্যাখ্যা।
সাংবাদিক ও আয়োজকদের জন্য অফিশিয়াল প্রতিকৃতি (JPG, ২৪০০ পিক্সেল) আর সংক্ষিপ্ত জীবনী। ব্যবহারের সময় ছবির ক্রেডিট উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন, মতামত বা আমন্ত্রণ থাকলে লিখে পাঠান। নিয়মিত খবর পেতে তাঁর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টগুলো অনুসরণ করুন।

“আমার সতীর্থ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করা সব রাজনৈতিক দল থেকে বাংলাদেশের সব মানুষ।”